এটি Quran Blog-এর একটি নিবন্ধের অনুবাদ। অনুবাদ প্রক্রিয়ায় কুরআনের উদ্ধৃতি বা ধর্মীয় বিধান তৈরি করা হয় না।

কুরআনের কোনো অনুবাদের উদ্ধৃতিসূত্র দিতে প্রথমে আপনি যে সংস্করণটি ব্যবহার করেছেন, সেটির তথ্য সংগ্রহ করুন: অনুবাদক, সংস্করণ বা ওয়েবসাইট এবং সূরা ও আয়াতের নির্দেশনা। সরাসরি উদ্ধৃতিকে আপনার নিজের ভাষায় লেখা ভাবার্থ বা সংযোজিত ব্যাখ্যা থেকে আলাদা রাখুন। তারপর আপনার প্রতিষ্ঠান বা প্রকাশনার নির্ধারিত উদ্ধৃতিরীতি অনুযায়ী সূত্রটি সাজান; প্রকাশনার কোনো তথ্য না থাকলে অন্য সংস্করণ থেকে তা নিয়ে নিজের সংস্করণের তথ্য হিসেবে বসাবেন না।

উদ্ধৃতিসূত্র সাজানোর আগে উৎসের তথ্যকার্ড তৈরি করুন

  1. সংস্করণ: যে সংস্করণ বা ওয়েবপৃষ্ঠা থেকে ভাষ্যটি নিয়েছেন, সেটি এবং অনুবাদকের নাম সংরক্ষণ করুন।
  2. অবস্থান: সূরা ও আয়াত বা আয়াতের পরিসর লিখে রাখুন এবং হুবহু উদ্ধৃতিটি আপনার নোট থেকে আলাদা করে সংরক্ষণ করুন।
  3. বিন্যাস ও যাচাই: নির্ধারিত রীতি অনুসরণ করুন, তারপর তৈরি করা উদ্ধৃতিসূত্র ধরে উৎসটি আবার খুলে নিশ্চিত হয়ে নিন।

আপনি যে সংস্করণ পড়েছেন, সেটিরই সূত্র দিন

গবেষণাভিত্তিক একটি মৌলিক সম্পাদকীয় নির্দেশিকা। সূত্রগুলো যাচাই করা হয়েছে 10 অক্টোবর 2026। ব্যবহারিক অনুশীলনগুলো সম্পাদকীয় পরামর্শ; সরঞ্জামের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট প্রদানকারীর উৎস চিহ্নিত করা আছে। প্রচ্ছদটি একটি সম্পাদকীয় চিত্র।

কুরআনের অনুবাদের উদ্ধৃতিসূত্র দেওয়ার সময় সূরা ও আয়াতের নির্দেশনা, অনুবাদক, সংস্করণ বা অনলাইন উৎস এবং আপনার ব্যবহৃত হুবহু ভাষ্য সংরক্ষণ করুন। তারপর আপনার প্রতিষ্ঠান বা প্রকাশনার নির্ধারিত রীতি অনুযায়ী উদ্ধৃতিসূত্রটি সাজান। সূরা ও আয়াতের নির্দেশনা কুরআনের অংশটি খুঁজে পেতে সাহায্য করে; অনুবাদের তথ্য ব্যবহৃত ইংরেজি ভাষ্যটি শনাক্ত করে।

উৎসটি খোলা থাকা অবস্থাতেই এসব তথ্য সংগ্রহ করা সবচেয়ে সহজ। কোনো বাক্য কপি করার কয়েক দিন পর তার অনুবাদক খুঁজতে গেলে একটি সহজ সূত্র দেওয়ার কাজও বড় অনুসন্ধানে পরিণত হতে পারে। উৎসের একটি ছোট তথ্যকার্ড লেখার সময় সরাসরি উদ্ধৃতি, নিজের ভাষায় লেখা ভাবার্থ এবং আপনার নিজস্ব ব্যাখ্যা আলাদা রাখা সহজ করে।

আপনি আসলে যে সংস্করণ পড়েছেন, সেটি দিয়ে শুরু করুন

মুদ্রিত অনুবাদের ক্ষেত্রে নামপত্র ও কপিরাইটের পৃষ্ঠা দেখুন। সেই কপিতে দেওয়া পূর্ণ শিরোনাম, অনুবাদক, সংস্করণের তথ্য, প্রকাশক এবং প্রকাশের বছর লিখে রাখুন। অনলাইনে পড়লে নির্বাচিত অনুবাদটি শনাক্ত করুন এবং ব্যবহৃত অংশের সরাসরি লিংক সংরক্ষণ করুন। শুধু ওয়েবসাইটের নাম থেকে কোন ইংরেজি অনুবাদটি দেখানো হয়েছিল, তা বোঝা নাও যেতে পারে।

অন্য সংস্করণে মুদ্রিত বছরটি আপনার সংস্করণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে ধরে নেবেন না। একটি গ্রন্থের একাধিক সংস্করণ থাকতে পারে, আর অনলাইন উৎসে প্রকাশনাসংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্যও থাকতে পারে। উৎসে আসলে যে তথ্য দেওয়া আছে, সেটিই সংরক্ষণ করুন। তারিখ না থাকলে বছর বানিয়ে লেখার বদলে এ পরিস্থিতির জন্য নির্ধারিত উদ্ধৃতিরীতির নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

ব্যাখ্যাগ্রন্থের ক্ষেত্রে কুরআনের অনুবাদকে ব্যাখ্যাকারীর নিজস্ব আলোচনা থেকে আলাদা করুন। দুটিরই সূত্র দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। কোনো অংশের ব্যাখ্যামূলক বাক্য তার নির্দিষ্ট লেখক বা গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত; শুধু আয়াত নম্বর যোগ করলে আপনি যে ব্যাখ্যাটি উদ্ধৃত বা মূল্যায়ন করছেন, পাঠক সেটি খুঁজে পাবেন না।

অংশটির সংখ্যাভিত্তিক অবস্থান ব্যবহার করুন

কুরআনের অবস্থান সহজে চেনা যায় এমনভাবে লিখুন, যেমন আল-বাকারা 2:255 বা আল-ইখলাস 112:1–4। পাঠক ভিন্ন পৃষ্ঠাবিন্যাসের অন্য সংস্করণ ব্যবহার করলেও এটি কাজে আসে। নির্দিষ্ট রীতি অনুসরণ করে কোনো প্রবন্ধ লিখলে উদ্ধৃতিসূত্র চূড়ান্ত করার আগে সেই রীতির যতিচিহ্ন ও নাম লেখার নিয়ম দেখে নিন।

ধর্মীয় গ্রন্থ সম্পর্কে APA Style-এর আনুষ্ঠানিক উদাহরণগুলো লেখকদের মূল পাঠের জন্য স্বীকৃত অধ্যায় বা আয়াতের সংখ্যাভিত্তিক নির্দেশনা ব্যবহার করতে বলে। সপ্তম সংস্করণের নির্দেশনায় বই বা ওয়েবসাইট হিসেবে প্রকাশিত ধর্মীয় গ্রন্থের জন্য সংশ্লিষ্ট ধরনের সূত্রবিন্যাস ব্যবহার করা হয় এবং ব্যবহৃত সংস্করণের প্রকাশের বছর উল্লেখ করা হয়। APA প্রয়োজন হলে মূল উদাহরণগুলো দেখে নিন।

একই APA পৃষ্ঠায় ধর্মীয় মূল পাঠকে টীকাসংবলিত গ্রন্থের সম্পাদকদের সংযোজিত বিষয়বস্তু থেকে আলাদা করা হয়েছে। আপনার যুক্তিতে কোনো পাদটীকা বা ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদ আলোচিত হলে এই পার্থক্য জরুরি। নির্ধারিত রীতি অনুযায়ী গ্রন্থের পৃষ্ঠা বা টীকার তথ্য ব্যবহার করে সংযোজিত বিষয়বস্তুর অবস্থানও লিখে রাখুন।

সরাসরি উদ্ধৃতি, নিজের ভাষায় ভাবার্থ এবং ব্যাখ্যা

হুবহু উদ্ধৃতিতে উৎসের প্রকৃত ভাষ্য ব্যবহার করা হয় এবং উৎস শনাক্ত করা প্রয়োজন। নিজের ভাষায় ভাবার্থ লিখলে উৎসের অর্থ আপনার ভাষায় প্রকাশিত হয়, তবুও উপযুক্ত উদ্ধৃতিসূত্র দিতে হয়। আপনার নিজস্ব পর্যবেক্ষণকে নিজের অবদান হিসেবেই লিখুন এবং যেসব দাবির পক্ষে উৎস প্রয়োজন, সেগুলোর সঙ্গে সমর্থনকারী সূত্র যোগ করুন।

খসড়া লেখার সময় নোটে এই বিভাগগুলো চিহ্নিত করুন। “কপি করা ভাষ্য”, “আমার ভাষায় ভাবার্থ” এবং “আলোচনার প্রশ্ন”—এসব সাময়িক চিহ্ন কাজে আসে। এতে উৎসের পরিশীলিত কোনো বাক্য অজান্তে স্বীকৃতি ছাড়াই আপনার অনুচ্ছেদে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা কমে। চূড়ান্ত লেখায় সম্পর্কগুলো স্পষ্ট হওয়ার পরই খসড়ার এসব চিহ্ন সরিয়ে ফেলুন।

সর্বসাধারণের জন্য লেখা পোস্টে বক্তব্যের জন্য যতটুকু দরকার, শুধু ততটুকুই উদ্ধৃত করুন এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা করলে অনুবাদটি পুনঃপ্রকাশের শর্ত যাচাই করুন। সহজে পড়া যায় এমন কোনো ওয়েবপৃষ্ঠা নিজে থেকে সম্পূর্ণ অনুবাদটি পুনঃপ্রকাশের অধিকার জানায় না। অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ভাষায় বিষয়টি আলোচনা করার পাশাপাশি পূর্ণ অংশটির লিংক দেওয়া যায়।

সাজানো উদ্ধৃতিসূত্রের আগে উৎসের তথ্যকার্ড

  • কুরআনের অংশ: সূরার নাম এবং সূরা ও আয়াতের সংখ্যাভিত্তিক নির্দেশনা।
  • সংস্করণ: অনুবাদের পূর্ণ শিরোনাম এবং অনুবাদক বা অনুবাদকদল।
  • প্রকাশনা: উৎসে দেওয়া সংস্করণ, প্রকাশক এবং বছর।
  • অনলাইন অবস্থান: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অংশটির সরাসরি লিংক এবং ওয়েবসাইট।
  • ব্যবহৃত বিষয়বস্তু: হুবহু উদ্ধৃত অংশ, নিজের ভাষায় ভাবার্থ, পাদটীকা বা ব্যাখ্যার অবস্থান।

কার্ডটিকে সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ হিসেবে ভাবুন, সম্পূর্ণ প্রস্তুত APA, MLA বা Chicago উদ্ধৃতিসূত্র হিসেবে নয়। একই যাচাইকৃত তথ্য আপনার কাজের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সাজানো যায়। এতে একটি সাধারণ ছককে এমনভাবে উপস্থাপন করা এড়ানো যায়, যেন সেটিই প্রতিটি সংস্করণ ও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সঠিক চূড়ান্ত সূত্র।

আপনার উৎস স্ক্রিনশট হলে কার্ড পূরণের আগে মূল পাঠের ওয়েবপৃষ্ঠা বা মুদ্রিত গ্রন্থে ফিরে যান। কোনো ছবিতে অনুবাদকের নাম বাদ পড়তে পারে বা অংশটি সংক্ষিপ্ত করা হতে পারে। ছবির ইংরেজি ভাষ্য কোথা থেকে এসেছে তা নিশ্চিত করতে না পারলে শনাক্ত করা যায় এমন একটি সংস্করণ খুঁজুন এবং সেই যাচাইকৃত উৎস ব্যবহার করে আপনার লেখা সংশোধন করুন।

প্রকাশনার তথ্য বানিয়ে না লিখে একটি ব্যবহারিক উদাহরণ

ধরা যাক, আপনার প্রবন্ধে আল-ইখলাস 112:1 নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। খুলে নিন আয়াতটি, যে অনুবাদটি ব্যবহার করতে চান সেটি নির্বাচন করুন এবং প্রদর্শিত অনুবাদকের নাম লিখে রাখুন। অংশটির লিংক সংরক্ষণ করুন। আপনার কাজের জন্য সেই অনুবাদের প্রকাশনাসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হলে শনাক্ত করা সংস্করণ বা তার সরবরাহকারীর তথ্য পর্যন্ত অনুসরণ করুন এবং সেখানে আসলে যা বলা আছে, তা সংগ্রহ করুন।

এবার আপনার বিশ্লেষণটি নিজের ভাষায় লিখুন এবং হুবহু কোনো ইংরেজি অংশ উদ্ধৃত করা দরকার কি না ঠিক করুন। দরকার হলে উদ্ধৃতিচিহ্ন বসানোর আগে নির্বাচিত অনুবাদের সঙ্গে অংশটি মিলিয়ে নিন। সংশোধনের সময় অনুবাদক বদলালে ভাষ্য ও উৎসের তথ্যকার্ড একসঙ্গে আবার যাচাই করুন। অবস্থান একই থাকে, কিন্তু উদ্ধৃত ইংরেজি উৎস বদলে যায়।

চূড়ান্ত উদ্ধৃতিসূত্র দুই দিক থেকে যাচাই করুন

আপনার অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুন, কার ভাষ্য বা ব্যাখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে তা পাঠক বুঝতে পারবেন কি না। তারপর উদ্ধৃতিসূত্র ধরে উৎসে ফিরে গিয়ে প্রকৃত অংশটি খুঁজুন। এই দুইমুখী যাচাইয়ে অসম্পূর্ণ সূত্র, অনুবাদকের অমিল এবং সংরক্ষিত লিংকে ভুল আয়াত খুলে যায় এমন উদ্ধৃতি ধরা পড়ে।

আমাদের আয়াতের নির্দেশনা বোঝার নির্দেশিকা ওই যাচাইয়ের অবস্থানসংক্রান্ত অংশে সাহায্য করে। অনুবাদের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, অনুবাদগুলোর তুলনা মনোযোগ দিয়ে অধ্যয়নের একটি পদ্ধতি দেয়। কুরআনের অংশ, ব্যবহৃত সংস্করণ এবং আপনার নিজস্ব অবদান স্পষ্ট রাখলে চূড়ান্ত উদ্ধৃতিসূত্র নির্ভুলভাবে সাজানো অনেক সহজ হয়।


APA Style: ধর্মীয় গ্রন্থের সূত্র — APA-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে সপ্তম সংস্করণের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে। সাধারণ তথ্যকার্ডের উদাহরণগুলো সম্পাদকীয় পরামর্শ; আপনার প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত রীতি ব্যবহার করুন।

সম্পর্কিত পাঠ

আরও পড়ুন: কুরআনের আয়াতের উল্লেখ কীভাবে পড়বেন: সূরা ও আয়াত অথবা শেয়ার করার আগে কুরআনের উদ্ধৃতি বা দাবি কীভাবে যাচাই করবেন.